গ্রামীণফোন আজ এসডি এশিয়ার সহযোগীতায় জিপি অ্যাকসেলেরেটর কর্মসূচী চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচী বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি(আইসিটি) খাতের স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
গ্রামীণফোন ও এসডি এশিয়ার মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাজধানীর ফার্মগেটে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশে প্রযুক্তি বিষয়ক নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বাজার তৈরিতে কাজ করছে এসডি এশিয়া।
বাংলাদেশে আইসিটি খাতে স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পথচলা শুরু করতে পারে ও তাদের আইডিয়াগুলো নিয়ে কাজ করতে পারে এ লক্ষ্যেই কাজ করবে জিপি অ্যাকসেলেটর। গ্রামীণফোন ও এসডি এশিয়া সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ নির্বাচন করে তাদের সব বিষয়ে পরামর্শ দিবে এবং তাদের ব্যবসাকে গতিশীল করার জন্য আর্থিক সহায়তা দিবে। এক্ষেত্রে, স্টার্টআপের আইডিয়াগুলো প্রযুক্তি ও মোবাইল যোগাযোগ কেন্দ্রিক হবে যার মূল লক্ষ্য থাকবে বাস্তব জীবন কাজে লাগে এমন সমাধান তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এরলেন্ড প্রেস্টগার্ড বলেন, "গ্রামীণফোনের লক্ষ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন। জিপি অ্যাকসেলেটরের মাধ্যমে আমরা আমাদের স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নে সাহায্য করবো। আইসিটি খাতে নেতৃস্থানীয় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এমন প্রযুক্তিসেবা আনার জন্য আমরা আমাদের দক্ষতা ব্যবহার করে উৎসাহী স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার ব্যাপারে আগ্রহী।"
এ চুক্তির অধীনে চার মাসের দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে যার প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। দ্বিতীয় সেশনটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের জুন মাসে। প্রতিটি সেশনে নিবার্চন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৫টি প্রকল্পকে নেয়া হবে। প্রতিটি সেশনের শেষে অংশগ্রহণকারীদের একটি প্রদর্শনী দিবসে সম্ভব্য বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্য তাদের প্রকল্প উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া হবে ।
নির্বাচিত প্রতিটি প্রকল্প তাদের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পুজি হিসেবে ১০ লক্ষাধিক টাকা পাবে। এছাড়াও তারা গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ে কাজ করার সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা পাবে। প্রতিটি স্টার্টআপ প্রকল্পকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নির্দেশনা দেয়া হবে।
এসডি এশিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা সামাদ মিরালি বলেন, "একটি ইকো সিস্টেম নির্মাতা হিসেবে উদ্যোক্তাদের সফল হতে কি লাগে সে ব্যাপারে আমাদেরা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই আমরা জিপি অ্যাকসেলেরেটর পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি, যেন এর মাধ্যমে প্রতিভাবানদের উদ্ভাবনী কাজে আনা এবং তাদের উদ্ভাবনে সহায়তা করা যায়। প্রতিষ্ঠাবান্ধব অ্যাকসেলেরেটর স্টার্টআপদের উদ্যোগতা জীবনের বন্ধুর পথ পারি দিতে সহায়তা করবে এবং তাদের সফলতার পথে নিয়ে যাবে। দেশে স্টার্টআপ ইকো সিস্টেম গড়ে তোলার পথে জিপি অ্যাকসেরেরেটর একটি গুরুত্বর্পর্ণ পদক্ষেপ।"
অ্যাকসেলেরেটর প্রোগ্রামটি উদ্যোগ বাণিজ্যায়নের বন্ধুর পথে সঠিক দিক নির্দেশনা দিবে ও সফল হওয়ার দিকে ধাবিত করবে। জিপি অ্যাকসেলেরেটর দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উন্নয়নে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
গ্রামীণফোনের সুযোগ থাকবে প্রতিটি স্টার্টআপে সীমিতভাবে হলেও বিনিয়োগ করার। গ্রামীণফোন এসডি এশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে স্টার্টআপগুলোর নতুন পণ্য ও সেবার উন্নয়নে তাদের পরামর্শ ও নির্দেশনা দিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
গ্রামীণফোনের ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ প্রয়াসের অধীনে স্থানীয় ডেভেলপার ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সংস্থার সাথেই কাজ করছে যাতে তারা আরও বেশি প্রযুক্তি বিষয়ক উদ্ভাবনী সেবার সুযোগ তৈরি করতে পারে। জিপি অ্যাকসেলেরেটর এমন একটি উদ্যোগ যার লক্ষ্য আইসিটিট খাতে সর্বাধুনিক ও উপযোগী সেবা দিতে স্থানীয় স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার এরল্যান্ড প্রেস্টগার্ড, জিপি অ্যাকসেলেরেটরের প্রকল্প পরিচালক ফয়সাল কবির। এসডি এশিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফিজ খান, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ফরচুনা গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম ফায়াজ তাহের এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা সামাদ মিরালি। আবেদন করতে ভিজিট করুনঃhttp://www.grameenphoneaccelerator.com/